Skip to content
বাবা মানেই পূজোর সময়ে
ঠাকুর দেখার ঘটা,
রবির সন্ধ্যা পড়ার ছুটি
মজায় সাধ মেটা।
বাবা যত দুষ্টুমি আর
খেলা শিখিয়ে দিতেন,
মাঝে মাঝে অফিস ফেরত
লুডো আর তাস আনতেন।
জ্বরের ঘোরে আমি যখন
শুতুম পুরো বেহুঁশ—-
বাবাই আমায় খাইয়ে দিতেন
দুধসাবু, ফ্রুট জুস।
জ্বর হলেই যে পেয়ে যেতাম
একটা নতুন খেলনা…..
সুস্থ হলেই ভাবতুম মনে,
জ্বর কেন আর হয় না?
কাবুলিওলা, সুভাষ চন্দ্র
সিনেমা দেখার পরে
বাবার আদেশে লিখতুম সেই
কাহিনী নতুন করে।
একটু যদি বেশি মার্কসটা
মিলত পরীক্ষায়,
বাবা বলতেন, মাছ মাংস
খুকি যেন বেশি খায়।
জন্ম দিনে গল্পের বই
ছোটদের, দৈত্যরই
দুপুর হ’লেই বানান করে
পাঠোদ্ধার তারই।
আজকে আমার বাবা কোথায়?
হারিয়ে বহু আগে
চোখের জলে তাঁকে ভেবে
কাটে যে রাত জেগে ।
শিশু কহে জননীরে
হয়েই ভূমিষ্ঠ,
“খাদ্য দাও, রেখো না গো
পিপাসায় ক্লিষ্ট ।
ইচ্ছা পূরণ করিয়াছি
আমি যে তোমার
বিনিময়ে কিছু দেওয়াও
কর্তব্য যে মা’র।”
বার্দ্ধক্যে পিতামাতা
সন্তানেরে কন,
“অক্ষম বাপ-মাকে
তুমি কর সুরক্ষণ।”
বন্ধু কহে,”বিপদে তব
হয়েছি সহায়,
আমারেও দুঃখে একা
রেখো না কো হায়।”
পতী-পত্নীর চাওয়া পাওয়া
আর ভালবাসা—-
সেটাও যেন নিছকই
শুধু প্রত্যাশা।
চাকরি,ব্যবসা আর
দাসদাসীর সেবা—
প্রতিদানে পারিশ্রমিক
ছাড়া আছে কি বা?
যে কোনো সম্পর্কে জেনো
আছে কিছু দেওয়া,
বিনিময়ে তারপরে
অবশ্যই চাওয়া।
বিনিময়ে কিছু চেয়ে
নেওয়ার আশা—-
পরস্পরের এই ভাবকে
বলে প্রত্যাশা।
Create your own website, free on WordPress.com.Create your own website.
Start free