স্নান যাত্রার ছবি

কৃষ্ণ এলেন সাগর তীরে

স্নানের যাত্রায়,

বসেন তাঁকে নিয়ে বল

রাম সুভদ্রায়।

লুকিয়ে রাধা দেখেন প্রিয়

সখা কানুর রূপ…..

কী রূপ সে যে ঠিকরে পড়ে

অভিরাম অপরূপ!

স্নানের সময়ে প্রেম বিলাস

রাইমণির সাথে

কোথায় হ’ল? ভেবেই রাধার

মান হ’ল যে তা’তে।

ভাইবোনেরা আপন হ’ল,

শ্রীমতী কেউ নয়?

ভেবে সৌদামিনী কাঁদেন…..

এ কেমনে হয়?

রাধিকার অন্তরের কথা

বোঝেন অন্তর্যামি- – –

মনে মনে বলেন শ্রীমান,

“তোমারই তো আমি ।”

বলরাম স্নান করে নিলেন,

সুভদ্রার স্নান সারা- – –

এবার কানাই যমুনা আর সাগরকে

বলেন,”দাঁড়া।”

যমুনার জল শুকিয়ে গেল,

সাগরের জল ভাঁটায়,

রাধার অশ্রু ধারায় যমুনা

অনাবিল জল জুটায়।

সেই জলেতেই স্নান সারলেন

মোদের শ্যামল কিশোর ,

সেই খুশিতেই রাই সাজালেন

দোঁহার মিলন বাসর।

পিতৃস্মৃতি

বাবা মানেই পূজোর সময়ে

ঠাকুর দেখার ঘটা,

রবির সন্ধ্যা পড়ার ছুটি

মজায় সাধ মেটা।

বাবা যত দুষ্টুমি আর

খেলা শিখিয়ে দিতেন,

মাঝে মাঝে অফিস ফেরত

লুডো আর তাস আনতেন।

জ্বরের ঘোরে আমি যখন

শুতুম পুরো বেহুঁশ—-

বাবাই আমায় খাইয়ে দিতেন

দুধসাবু, ফ্রুট জুস।

জ্বর হলেই যে পেয়ে যেতাম

একটা নতুন খেলনা…..

সুস্থ হলেই ভাবতুম মনে,

জ্বর কেন আর হয় না?

কাবুলিওলা, সুভাষ চন্দ্র

সিনেমা দেখার পরে

বাবার আদেশে লিখতুম সেই

কাহিনী নতুন করে।

একটু যদি বেশি মার্কসটা

মিলত পরীক্ষায়,

বাবা বলতেন, মাছ মাংস

খুকি যেন বেশি খায়।

জন্ম দিনে গল্পের বই

ছোটদের, দৈত্যরই

দুপুর হ’লেই বানান করে

পাঠোদ্ধার তারই।

আজকে আমার বাবা কোথায়?

হারিয়ে বহু আগে

চোখের জলে তাঁকে ভেবে

কাটে যে রাত জেগে ।